Home অণুগল্প প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অণুগল্প ‘বইমেলার ডাইরি’
অণুগল্প

প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অণুগল্প ‘বইমেলার ডাইরি’

Share
Share

 

এই ক’দিন আগে এক সাহিত্যসভায় আলাপ বিপুলদার সাথে। ফেরার পথে একটা সিগারেট ধরিয়ে বললেন,খাও। পুলক সদ্য পার্ট টুর ছাত্র। সিগারেট যে খায় না তা নয়। তবে বাপের বয়েসী কারও সাথে? না,এই প্রথম। কবির আবার বয়েস কী! বিপুলদা যেন তার মনের কথা বুঝে ফেলেছে। সিগারেট শেষ করে বিদায় নেবার সময় দু’জনের কথা হল বইমেলায় দেখা হচ্ছে।

কলেজের তিনজন বন্ধু বান্ধবী জুটিয়ে পুলক প্রথমবার বইমেলায় গেল। সদ্য কবিতা লিখছে। বন্ধু মহলে কবি নামও শুনছে। বিশেষত মেয়েরা তাকে এই নামেই ডাকে। মধুরিমা বলল,এই কবি,বইমেলায় নিয়ে যাবি তো? পকেটে কড়কড়ে ছ’টা একশোর নোট। শেষ দুপুরেই তারা পৌঁছে গেল বইমেলায়।

বিপুলদা স্টলের নম্বর বলে দিয়েছিল। সেখানেই তার সাথে দেখা হল। সাথে দুই বান্ধবী আর এক বন্ধুকে দেখে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করল, কোনটা তোর? তারপর এই টেবিল, ওই টেবিল ঘোরালো। নিজেই পছন্দ করল গুচ্ছের লিটল ম্যাগ। তাদের সব স্টলেই বিপুলদার কদর। এক ব্যাগ লিটল ম্যাগাজিন আর কবিতার বই ব্যাগে ঢুকিয়ে পুলক খেয়াল করল তার পকেট গড়ের মাঠ। মধুরিমা চিমটি কেটে বলল, চল চল,এবার বাকি মেলাটা ঘুরে দেখি। বিপুলদা অনেকটা এগিয়ে দিয়ে গেলেন।
একটু এগোতেই ফুডজোন। খিদে পেয়েছে। মধুরিমা বলল, কী খাবি তোরা? প্রিতম বলল,আজ কিন্তু কবি খাওয়াবে। আমরা বাপু এইসব বইটই বুঝি না। মেলা দেখতে এসেছিলাম৷ নাগরদোলা নেই৷ এ আবার কী মেলা!

পুলকের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। মধুরিমা মুচকি হেসে বলল,ভেবেছিলাম,সরস্বতী পুজোতে বলব। কিন্তু তোর যা অবস্থা, এই মাসটা খুব কষ্ট করে ম্যানেজ করতে হবে। ট্রেন থেকে নেমে আর অটো করে কলেজ যেতে পারবি না৷ হাঁটতে হবে। আমাকে তোর সঙ্গে নিবি? একসাথে বাকী পথটা হাঁটব!

পুলক বইমেলার ভীড়ে দাঁড়িয়ে অনুভব করল, কিছু প্রেম আসলে কবিতার মতন। তারপর ওরাও ভীড়ে হারিয়ে গেল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *